একুয়া নিউজ
বাংলাদেশে একুশ শতকের লাগসই মৎস্য প্রযুক্তি বিকাশে

Biofloc ব্যবস্থাপনা

লেখকঃ সদর আমীন   2019-09-01 01:19:23    Visited 2484 Times

বায়োফ্লোকের প্রধান উপাদান হলো হিটারোট্রফিক ব্যাকটিরিয়া। বায়োফ্লোকের কাজ হল মাছ বা চিংড়ির অতিরিক্ত খাদ্যের পঁচন এবং মলমূত্র থেকে উৎপাদিত নাইট্রোজেনাস (অ্যামোনিয়া NH3, নাইট্রাইট NO2) কমানো। বায়োফ্লকে হিটারোট্রফিক ব্যাকটিরিয়া বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে খেয়ে জৈব প্রোটিন কনা বা ফ্লক সৃষ্টিতে সহয়তা করে। এই জৈব কনা বা ফ্লক গুলো মাছ বা চিংড়ি তাদের খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। ফলে মাছ বা চিংড়ি দ্রুত বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। বায়োফ্লক ট্যাংকে অ্যামোনিয়াকে ভাঙ্গতে হিটারোট্রফিক ব্যাকটিরিয়ার শক্তি যোগানোর জন্য কার্বন মিডিয়া যোগ করতে হয়। যেহেতু অ্যামোনিয়ার সাথে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিক্রিয়া হওয়ার জন্য কার্বন প্রয়োজন। মাছের সম্পূরক খাদ্য ছাড়াও, হেটেরোট্রফিক ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন উৎসাহিত করতে এবং নাইট্রোজেনাস বর্জ্য কমাতে কার্বনের একটি পরিপূরক উৎসের যোগান ট্যাংকে যোগ করতে হয়। মাছ বা চিংড়ির খাদ্যে কার্বন ও নাইট্রোজেন (C: N) অনুপাত প্রায় ৭-১০: ১ অনুপাত রয়েছে । আর হিটারোট্রফিক ব্যাকটেরিয়া প্রায় ১২-১৫:১ অনুপাতে বেশি সক্রিয় থাকে। অনুপাত বাড়াতে এবং ব্যাকটিরিয়ার বৃদ্ধির জন্য বায়োফ্লক ট্যাংকে কার্বন উৎস চিনি বা একটি মিশ্রিত মিডিয়া যোগ করতে হয়। এই মিডিয়াতে গুড়, চিনি, সুক্রোজ এবং ডেক্সট্রোজ অন্তর্ভুক্ত থাকে। আবার কিছু উৎপাদক গ্লিসারিন ব্যবহার করে থাকে। কার্বন উৎসের ফিড এবং সংমিশ্রণের প্রোটিন সামগ্রীর সাথে প্রয়োগের হারগুলি পৃথক হবে, তবে একটি প্রমাণীত ও ভাল নিয়ম হলো প্রতি কেজি খাদ্যের জন্য, প্রায় ০.৫-১ কেজি কার্বন উৎস প্রয়োজন হয়। বেশি প্রোটিন যুক্ত খাদ্যে বেশি পরিমাণে কার্বনের পরিপূরক প্রয়োজন। কার্বন যোগ করার আসল নিয়ম হলো ট্যাংকের পানির অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রাইটের মাত্রা বিবেচনা করে। একটি বায়োফ্লোক প্রজেক্ট সফল ও দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য বায়োফ্লোক পরিচালনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে হবে। তবে কৌশলটি তেমন জটিল নয়। বায়োফ্লোক সম্পর্কে সবচেয়ে সহজ এবং সহজে বুঝার জন্য যে প্রক্রিয়াটির সঠিক ব্যাখ্যা যানতে হবে তাহলোঃ - হিটারোট্রফিক ব্যাকটিরিয়া মাছের খাদ্য ও মলমূত্র থেকে উৎপাদিত বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে ভেঙ্গে বা খেয়ে ব্যাকটেরিয়া যুক্ত জৈবপুষ্টি কণায় রূপান্তরিত করে। উৎপাদিত ফ্লক গুলোর মধ্যে কিছু পরস্পরের খাদ্য হিসাবে ব্যবহ্নত হয়। যেমন- প্রোটোজোয়া এবং কিছু ক্ষুদ্র অণুজীব দ্বারা কিছু অত্যান্ত পুষ্টিকর জৈবকণা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার ফলে তাদের বংশ বৃদ্ধি হয়ে, জৈববস্তুপুঞ্জে রূপান্তরিত হয়। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব ও প্রোবায়টিক ব্যাকটেরিয়াগুলি ছোট ছোট ফ্লকে কলোনি সৃষ্টি করে থাকে এবং তা মাছ ও চিংড়ির খুবই পুষ্টিকর খাবার হিসাবে ব্যবহ্নত হয়। অপরদিকে এরা বায়োফ্লোক পদ্ধতির পানির গুণগতমান ঠিক রাখতে সহায়তা করে এবং পানি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা কমায়। বায়োফ্লক ট্যাংকে প্রাকৃতিক ভাবে ২০% খাদ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে অতিরিক্ত খাদ্যের চাহিদা যেমন কমে তেমনি, জৈব সুরক্ষা ঠিক রাখতে সহায়তা করে।


লেখক : সদর আমীন মৎস্য প্রযুক্তিবিদ।

User Comments: